কম্পিউটার ও ড্রাইভিং শিখিয়ে মাগুরাসহ ৫ জেলায় ৮ হাজার নারীকে স্বাবলম্বী করা হবে

মাগুরা সদর

মাগুরা সংবাদ :

 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের দুস্থ নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং শিখিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির নাম ‘দুস্থ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্প।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি জেলার ২৪টি উপজেলায় দুঃস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও হতদরিদ্র ছেলে মেয়েদের ড্রাইভিং এবং কম্পিউটার আইটি আইসিটি বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

এ ছাড়া মাগুরা, কুষ্টিয়া মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ এই ৫টি জেলার অসহায় ও দরিদ্র মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এ সব উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত প্রায় ৮ হাজার ১৬০ জন অসহায় পুরুষ ও মহিলাকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপাজনক্ষম ও স্বনির্ভর করা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন সাহায্যে করা। ইউনিয়ন তথা গ্রাম পর্যায়ে দুঃস্থ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরুষ ও মহিলাকে ই-মার্কেটিংয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিকরণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রকল্প এলাকার অসহায় ৩ হাজার ৬৬০ জন ছেলে মেয়েকে ড্রাইভিং এবং ৪৫০০ জন কম্পিউটার আইটি বিষয়ে মৌলিক ও গ্রাফিক ডিজাইন প্রভৃতি বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত ৮ হাজার ১৬০ জন দুঃস্থ ছেলে ও মেয়েদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সমাজ সেবা অধিদফতর ও বহুমুখী মানব কল্যাণ সংস্থা।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প দারিদ্র্য নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য যেন পূরণ হয়। বাস্তবায়ন পর্যায়ে তদারকি সঠিকভাবে করতে হবে।’

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, পিইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম। ওই সভার কার্যবিবরণীতে যেসব বিষয় উল্লেখ ছিল তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-প্রত্যাশী সংস্থার (বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান) ড্রাইভিং ও কম্পিউটিার প্রশিক্ষণের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এ ছাড়া কীভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে সে সম্পর্কে কোনো কর্মপরিকল্পনাও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। অফিস ভাড়া বাবদ ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৭০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়। অফিস ভবন ভাড়া বাবদ বরাদ্দ অত্যাধিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ২৮৫টি কম্পিউটার, ২৮০টি কম্পিউটার টেবিল ও ২৮০টি কম্পিউটার চেয়ার কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতগুলো কম্পিউটার কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পিইসি সভায় প্রশ্ন তোলা হয়। পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পুনর্গঠনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বেকার সমস্যা বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কর্মসংস্থান উপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করার বিকল্প নেই। দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, এতিম ও হতদরিদ্র। এ বাস্তবতায় দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, এতিম ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলস্রোত ধারায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ২৪টি উপজেলায় দুস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৮ হাজার ১৬০ জন সদস্যকে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে আভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, হায়ারিং চার্জ, কম্পিউটার এবং আনুষঙ্গিক, আসবাবপত্র ক্রয় এবং অফিস ভবন ভাড়া ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *