মাগুরার আকাশে উড়ছে রং-বেরঙের ঘুড়ি,ঘরবন্দি সময়ে ছোটদের সাথে বড়রা

মাগুরা সদর

মাগুরা সংবাদ :

দূরদিগন্ত পাড়ি দিয়েছে কালো মেঘের দল। ধূসর মেঘের আড়ালে পশ্চিম আকাশে সূর্যটা ছড়াচ্ছে শেষ আভা। আকাশজুড়ে উড়ছে রং- বেরঙের ঘুড়ি। সবার নজর অসীম আকাশে। লাল, নীল, সাদা, হলুদ রাঙাকাগজের ঘুড়ি উড়ছে সেখানে দুলে দুলে। এমনই এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে মাগুরার আকাশে। করোনাভাইরাসে পরিবারপরিজন নিয়ে অলস সময় পার করছে মাগুরাবাসী। তাই তো পরিবারকে আনন্দ দিতে বিকেল হলেই পরিবারের ছোট-বড়রা মিলে ঘুড়ি উড়াচ্ছে খোলা মাঠে। অন্যদিকে করোনার কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত কাগজ, সুতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় ঘুড়ি উৎপাদন হচ্ছে কম এবং দাম আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘুড়ি কারিগররা।
জানা যায়, ঘুড়ি উড়ানো এদেশে ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। মুঘল আমল থেকে খোলা মাঠে ঘুড়ি উড়ানো হত। কিন্তু ব্যস্ততার যাতাকলে পিষ্ট নাগরিক জীবনে ঘুড়ি উড়ানোর প্রবণতা কমেছে। ফলে কালের বিবর্তনে প্রাচীন এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে মানুষ ঘরে অলস সময় পার করছে। দোকান থেকে ক্রেতারা ঘুড়ি কিনতে না পারায় অনেকে বাড়িতে ঘুড়ি তৈরি করছে পাতলা কাগজ বা পলিথিন দিয়ে। ছোটরা পলিথিনের ব্যাগ কেটে নারকেল পাতার শলাকা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করছে। আর বড়দের জন্য ঘুড়ি ব্যবসায়ীরা পাতলা কাগজ ও বাঁশের পাতলা চটা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করে। তবে ঘুড়ির বাহারি নাম রয়েছে। যেমন চোখদ্বার, মালাদ্বার, পঙ্খীরাজ, চশমাদ্বার, কাউঠাদ্বার, চাপালিশ, চানদ্বার, একরঙা ইত্যাদি নামের ঘুড়ি।
এমনকি জাতীয় পতাকার রঙেও ঘুড়ি তৈরি করা হয়। তবে ঘুড়ির চেয়েও চোখ ধাঁধানো হয় এর লেজ। ঘুড়ি অনেক আকৃতির ও রং-বেরঙের হয়ে থাকে। এর সঙ্গে ঘুড়ি উড়ানোর লাটাইয়ের নামও বেশ মজাদার। যথা বার্টিওয়ালা, মুখবান্ধা, মুখছাড়া ইত্যাদি। পাতলা ঘুড়ি ভালো হলেও লাটাই যত ভারী হবে উড়াতে তত ভালো বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *