শালিখায় আম্ফান ঝড়ে লন্ডভন্ড শাহজান মিয়ার পোল্ট্রি খামার

শালিখা

মাগুরা সংবাদ:

শহিদুজ্জামান চাঁদ,শালিখা,মাগুরাঃ

মাগুরার শালিখায় মোঃ শাহজান মিয়া নামের এক অসহায় ব্যাক্তির পল্ট্রি খামার আম্ফান ঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে৷ শাহাজান মিয়া উপজেলার ৪নং শতখালী ইউনিয়নের পুরাতন বাজার এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে৷ গত বুধবার সারারাতের ঝড়ে পোল্ট্রি খামারটি ভেঙে তছনছ করে দিয়ে গেছে। এতে ১ লক্ষ টাকার ডিম ও খামার ঘর সহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে৷ যে কারনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি মালিক শাহাজান মিয়া ।
জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা থেকে একটানা সারারাত শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নে পুরাতন বাজার এলাকায় প্রবল বেগে ধেয়ে আসা আম্ফান ঝড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এর ফলে বিশেষভাবে খতিগ্রস্ত হয়েছেন ঐ এলাকার পোল্ট্রি খামারি শাহাজান মিয়া।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার অনেক ঘর-বাড়ি উল্টে পড়ে আছে। এছাড়াও রাস্তার গাছপালা উপড়ে পড়ে আছে জমিতে। অনেক ফসলেরও ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শাহাজান মিয়ার পোল্ট্রি খামার তার বাড়ির দক্ষিণ রাস্তার পাশে ফাকা মাঠের উপর পিলার দিয়ে প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়ে ছিলো। এই ঝড় এসে তার পোল্ট্রি খামারটি লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে। যার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয় তার খামারের। এদিকে ইসলামী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খামারটি শুরু করেছিলেন শাহাজান মিয়া৷ এমন পরিস্থিতিতে ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
খামার মালিক শাহাজান মিয়া জানান, আয়ের একমাত্র উৎসই ছিল তার আমার ওই পোল্ট্রি খামারটি। আম্ফান ঝড়ে ভেঙে যাওয়ায় বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছি আমি। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পোল্ট্রি ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে আমার। স্বল্প দরে পোল্ট্রি বিক্রি করায় প্রায় দেড় দুই লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে৷ আর এর মধ্যে ঝড় ও বৃষ্টিতে একমাত্র আয়ের উৎস খামারটি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বর্তমানে আমি খুবই দূর চিন্তার মধ্যে রয়েছি৷ তিনি সাংবাদিকদের আরো জানান ঋণ নিয়ে এ খামারটি গড়ে তুলেছিলাম ইনকামের আসায়। কিন্তু দেশের করোনা পরিস্থিতি ও ঝড়ে খামার ভেঙে যাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন। এই অবস্থায় কিভাবে ঋণের টাকা শোধ করবো বুঝতে পারছিনা৷ এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনসহ ব্যাংকের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন পল্ট্রি খামারি শাহাজান মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *