বিচারকের সামনেই কিভাবে খুন হল আসামি! (ভিডিও)

বাংলাদেশ

মাগুরা সংবাদঃ

কুমিল্লায় আদালত কক্ষের মধ্যে বিচারকের উপস্থিতিতে শুনানি চলাকালে এক আসামির ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন আরেক আসামি। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আসামি দুইজন – হাসান এবং ফারুক – একই হত্যা মামলার আসামি।প্রশ্ন উঠেছে বিচারকের উপস্থিতিতে আদালত চলাকালে কাঠগড়ায় দঁড়িয়ে থাকা হাতকড়া পড়া অবস্থায় আসামির হাতে কিভাবে ছুরি গেল অথবা ছুরি নিয়েই বা কিভাবে আদালতে আসামি প্রবেশ করল কিংবা কে এই ব্যক্তি যে আসামিকে ছুরি সরবরাহ করতে সহায়তা করেছেন। বিষয়টি খোলাসা করেছেন কুমিল্লার এসপি মো. সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা বেশ হতবাক হয়েছি। আসামি কিভাবে ছুরি পেল কিংবা কে আসামিকে ছুরি সরবরাহ করেছে বিষয়টি আমরা গুরত্বের সঙ্গে দেখছি। কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিন নং স্পেশাল কোর্টে হত্যা মামলার হাজিরা দিতে এসে ফারুক নামে এক আসামির ছুরিকাঘাতে হাসান নামে অপর আসামি নিহত হন। ফারুক লাকসাম উপজেলার শহীদুল্লার ছেলে। এদিকে নিহত হাসান পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিনি একই উপজেলার ওহিদুল্লার ছেলে। সর্ম্পকে উভয়ই মামাতো-ফুফাতো ভাই। মামাতো ভাই হাসানকে কেন ফুফাতো ভাই ফারুক খুন করল সে বিষয়ে জানতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে একটি তথ্য। নিহত হাসানের স্বজনরা জানান, ২০১৩ সালে হাসানসহ অন্যরা ফারুকের নানাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় হাসানের কারণে ফারুককেও ওই হত্যা মামলার আসামি করা হয়। এ নিয়ে হাসানের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিল ফারুক। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার শুনানি চলছিল। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আসামি ফারুক ও হাসান কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিন নং স্পেশাল কোর্টের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস এর আদালতে হাজির হয়। তখন বিচারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বিচারক। মামলার শুনানি চলাকালে হঠাৎ করেই ছুরি বের করে ঘাতক ফারুক হাসানের ওপর চড়াও হন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফারুক হাসানকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করেন। এসময় ফারুক মামলার আইনজীবী এপিপি এড নুরুল ইসলামের ওপরেও চড়াও হন। পরে পুলিশ এসে ঘাতক ফারুককে ছুরিসহ ধরে ফেলে। এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত হাসানকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিচারকের সামনেই আসামি খুনের ঘটনায় হতবাক হয়েছেন আদালতে অবস্থানরত আইনজীবী ও অন্যান্যরা। এপিপি এড.নুরুল ইসলাম বলেন, আমি যখন বিচারককে মামলার কার্যক্রম শুরু করার কথা বলি তখন ফারুক হাতকড়া অবস্থায় হাসানের ওপর চড়াও হন। আসামি হাসানকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে। পরে তিনি আমাকেও হত্যার উদ্দেশ্য ছুরি দিয়ে আঘাত করতে এগিয়ে এলে আমার সহকর্মী অ্যাডভোকেট সোমা আমাকে সরিয়ে দিলে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। এ ঘটনার পর পরই জেলা এসপি মো. সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এসপি মো. সৈয়দ নুরুল ইসলাম (বিপিএম বার, পিপিএম) বলেন, এ ঘটনায় আমরা বেশ হতবাক হয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরত্বের সঙ্গে দেখছি। কোর্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরের অবস্থা। >> ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। <<

কোর্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরে অবস্থা!

Posted by Mafuj Nanto on Sunday, July 14, 2019

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *