ঝিনাইদহে হাফ কেজি ওজনের শিল পড়লো বৃদ্ধের মাথায়

বাংলাদেশ

মাগুরা সংবাদঃ

ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক শিলা বৃষ্টি হয়েছে। শিলা বৃষ্টিতে মাঠের ধান, আমের গুটি ও লিচুসহ বিভিন্ন সবজি এবং ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলার কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় বরফের খণ্ড পড়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ শিলা বৃষ্টি শুরু হয়ে ৭টার দিকে শেষ হয়। তবে শিলায় ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

শিলা বৃষ্টির সময় জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায় মাথায় শিলা পড়ে আব্দুর রহমান (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ আহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার দয়ারামপুর বাজারে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় হাফ কেজি ওজনের একটি শিলা খণ্ড টিন ছিদ্র করে আব্দুর রহমানের মাথায় পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ৮৮ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়েছে। অনেক কৃষক ধার দেনা করে চাষ করেছেন। কিন্তু এমন শিলা বৃষ্টিতে চিন্তিত কৃষকরা।
কালীগঞ্জের স্কুল শিক্ষক সাবজাল হোসেন বলেন, তিনি কালীগঞ্জে এমন শিলা বৃষ্টি এর আগে কখনও দেখেননি। ২০ মিনিটের শিলা বৃষ্টিতে পুরো এলাকার রাস্তা ও মাঠ সাদা হয়ে যায়। মনে হচ্ছিল শিলা নয়, যেন বরফ পড়েছে। এমন শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলেও জানান তিনি। কোটচাঁদুপর উপজেলার পাসপাতিলা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার একটু আগে অল্প সময়ের শিলা বৃষ্টিতে আমের গুটি ও লিচু ঝরে পড়েছে। শিলায় উপজেলার বিভিন্ন মাঠের ধানসহ সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, আপাতত ধানের তেমন ক্ষতি চোখে না পড়লেও চিটা হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
উপজেলার ডাকবাংলা এলাকার স্থানীয় সংবাদকর্মী গিয়াস উদ্দীন সেতু জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার একটু আগেই বৃষ্টি নেই অথচ ছোট ছোট শিল পড়তে শুরু করে। কিছু কিছু শিলার ওজন ছিল ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত। এছাড়া দু’এক জায়গায় পড়া বরফ খণ্ডের ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ছিল জানান এই পত্যক্ষদর্শী। শিল পড়ে এলাকার বিভিন্ন ঘরের টিন ছিদ্র ছিদ্র হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, জেলা কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় সব থেকে বেশি শিলা বৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা অফিসগুলোকে নিদের্শ দিয়েছি ফসলের ক্ষতির বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করার জন্য। তাই এখনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, জেলার ইরি ধানের ক্ষেতগুলোতে থোড় আসা শুরু করেছে। কিছু কিছু ক্ষেতে শীষ বের হওয়া শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *