কবে ফিরবে মায়ের লাশ প্রতিক্ষায় ঝিনাইদহের রোজিনা

বাংলাদেশ

মাগুরা সংবাদঃ

মনিরুজ্জামান সুমন,জেলা প্রতিনিধি,ঝিনাইদহ:
প্রবাসে থাকায় মায়ের লাশের প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে ঝিনাইদহের শৈলকুপার কৃপালপুর গ্রামের রোজিনা খাতুন। ১ জানুয়ারি লেবাননে গৃহ পরিচারিকা সাজেদার আত্মহত্যার খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার প্রধান সাজেদার স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, ৪মাস পূর্বে তার স্ত্রী একই গ্রামের লেবানন প্রবাসী মিরুন্নাহার তানিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে যায়। কর্মরত অবস্থায় সাজেদার সাথে তানিয়া’র বনিবনা না হওয়ায় দেশে ফিরে আসার কথা ছিল সে মোতাবেক প্রস্তুুতিও চলছিল। হঠাৎ ২৯ শে জানুয়ারি সাজেদা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে মিরুন্নাহার তানিয়া টেলিফোনে খবর দেয়। নজরুলের মেয়ে রোজিনা খাতুনের অভিযোগ তার মাকে মানুষিকভাবে নির্যাতন করায় হয়তো আত্মহত্যা করতে পারে তাছাড়া তার মা সাধারনভাবে মারা যেতে পারেনা বলে আহাজারিতে ভেঙে পরে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, সাজেদা বরাবরই পাড়াগ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে বেড়াতো একজন সাধারন মানুষ ছিলো। তাদের নিকট আত্মীয় মিরুন্নাহার তানিয়া দম্পতি সাজেদাকে ভুলভাল বুঝিয়ে মোটা বেতনের কথা বলে বিদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে বাসার কাজে লেবানন নিয়ে যায়। সাজেদার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অপরদিকে তানিয়ার পিতা স্কুল শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানান, সাজেদাকে ভুলভাল বুঝিয়ে লেবানন পাঠানো হয়নি তার সাংসারিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে পারিবারিক আত্মীয় পরিজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করে নিজ ইচ্ছায় বিদেশ গেছে। তিনি বলেন তানিয়া একজন পরিচ্ছন্ন ভাল মনের মানুষ তাকে কেউ নির্যাতন করেনি। তবে কি কারনে সাজেদা আত্মহত্যা করতে পারে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে সাজেদা লেবানন থেকে ফিরতে চায়নি, তানিয়া বাসা থেকে পালিয়ে অন্য কোথাও কাজে যোগদানের চেষ্টা চালাচ্ছিল বলেই তানিয়া তাকে দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করেছে। সাজেদা দেশে ফিরবেনা বলেই হয়তো অভিমানে আত্মহত্যা করতে পারে বলে রেজাউল ইসলাম মন্তব্য করেন। কেন তাকে দেশে ফেরাতে মরিয়া ছিলেন তানিয়া এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে জানা যায়, সাজেদা নিজ ইচ্ছায় লেবানন কোথাও কাজে যোগদান করলে পরবর্তি সময়ে হয়তো হারিয়ে যেতে পারে। ফলে তার পরিবারের দায়ভার এড়াতেই সাজেদাকে গ্রামে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা চলছিল এবং ফ্লাইট প্রস্তুুতির শেষ মুহুর্তে সাজেদা দেশে ফেরার খবরে ফাঁকা বাসা পেয়ে আত্মহত্যা করেছে মন্তব্য করেছেন। লেবাননে ময়না তদন্ত শেষে সাজেদার লাশ সত্বর দেশে পাঠানোর সর্বাত্বক চেষ্টা করছেন বলেও তানিয়ার বাবা রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *